Header Ads

EASY SOCIAL MEDIA EXCHANGE & EARN MONEY WITH EARNMINES.COM

শবে বরাত পালনের নামে বিদাআত করা।




আমাদের সমাজে শবে বরাত কে কেন্দ্র করে যে ধরনের বিদাআতের ঘটনা ঘটে থাকে তা থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এবং তা শক্ত ভাবে বর্জন করতে হবে। কেননা বিদাতের পরিনাম খুব ভয়ংকর। শবে বরাত কে কেন্দ্র করে যে প্রচলিত  বিদাআত গুলো বর্জন করতে হবে তা সংক্ষেপে নিন্মে আলোচনা করা হলঃ


১) শবে বরাত কে উপলক্ষ করে ১৪ সাবান দিনে রোজা পালন করা। যা সম্পূর্ণ গুনাহের কাজ। কিন্তু প্রত্যক আরবী চাঁদে  তিনটি রোজা পালন করা যায়, সেগুলো আরবী মাসের ১৩,১৪ এবং ১৫ তারিখে করা যায়। সে অনুপাতে আপনি শাবান মাসের ১৪ তারিখে রোজা পালন করতে পারেন। কিন্তু সেই রোজা যেন শবে বরাত উপলক্ষে না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।


২) শবে বরাত উপলক্ষে আমাদের সমাজে "সালাতুল আলাফিয়া" অর্থাৎ ১০০ রাকাত নামায আদায়ের এক ভিন্ন রকম বিধান রয়েছে। যা কিনা শরীয়াতের বিধানের কোথাও অনুমোদন নেই। তাই এই ধরনের নামাজ আল্লাহ্‌র নবী রাসূল এবং তার সাহাবারা কখনো আদায় করেনি শবে বরাত উপলক্ষে।  তাই আমাদেরও এই সব বিদআত কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। ইমাম ত্বরতূশী (রাহ:) থেকে জানা যায় যে, এই ধরনের নামাজের বিধান সর্বপ্রথম চালু করেন ফিলিস্তিনের নাবলুস শহরের অধিবাসী ইব্‌ন আবুল হামরা 


৩) হালুয়া ও রুটি খাওয়ার হিড়িক। এটা আমাদের সমাজের একটা প্রচলিত নিয়ম হয়ে উঠেছে শবে বরাত কে কেন্দ্র করে। যেটার ব্যাপারে শরীয়াতের কোন অনুমোদন নেই। অনেকে বলেন রসূল (সঃ) এর প্রতি সমবেদনার জন্য এটি করে থাকেন। কেননা  ওহুদের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় কাফিরদের আঘাতে রসূল (সঃ) এর দাঁত ভেঙ্গে গিয়েছিল তাই সে ঐ সময় কয়েকদিন শক্ত খাবার খেতে পারেন নি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে  শাবান মাসে তো ওহুদ যুদ্ধ হয় নি। বরং তা হয়েছিল ৩য় হিজরী শাওয়াল মাসের সাত তারিখে। তাহলে এ সমবেদনা শাবান মাসের পনের তারিখে  কিভাবে করা হয়? 

২য়ত: হল, তিনি নরম খাবার কি শুধু একদিন খেয়ে ছিলেন? তাহলে এ কেমন ভালবাসা?


৪) শবে বরাত কে কেন্দ্র করে নানা রঙ্গ বেরঙ্গের কার্টুন, মূর্তি এবং জীব জন্তুর ছবি এঁকে বিভিন্ন মিষ্টান্ন পন্যের বাজারজাতকরণ করা হয়ে থাকে। যেখানে ইসলামে কার্টুন এবং মূর্তির কথা হারাম হিসেবে উল্লেখ আছে। তাহলে এটা কি ধরনের রঙ রসিকতা খাবার নিয়ে করা হয়


৫) শবে বরাত উপলক্ষে যে জিকির এবং মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো বিদআত এবং হারাম। যেটা আমাদের সমাজে শবে বরাতের রেওয়াজ হিসেবে প্রতি বছর পালিত হয়ে থাকে।


) কবর জিয়ারত করা হয়ে থাকে শবে বরাত কে কন্দ্র করে, একদল মুসলিম আছেন যারা কিনা সারা রাত বিভিন্ন গোরস্থানে ও মাজারে ঘুরে ঘুরে জিয়ারত করে থাকেন। হ্যাঁ এটা সত্যি আপনি যদি কবরে গিয়ে জিয়ারত করতে পারেন সেটার জন্য শবে বরাত এর মত কোন উপলক্ষ দরকার হয় না। 


৭) আতশবাজী ফোটানো এবং আলোক সজ্জা করা। শবে বরাত দিনটি কে গুরুত্ব দিয়ে আমদের সমাজে মসজিদ,  ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এবং বাড়ির আঙ্গিনা আলোক সজ্জা করা হয়ে থাকে বিভিন্ন রঙ্গের বাতি দিয়ে এমন কি পাড়ার ছেলেরা বিভিন্ন রকমের আতশবাজি ফুটিয়ে থাকে। যা কিনা সম্পূর্ণ হারাম।


৮) মৃতদের আত্মার পুনরায় আগমন কে বিশ্বাস করা। এই দিন উপলক্ষে অনেকে বিশ্বাস করেন যে তাদের মৃত আত্নীয় স্বজনের আত্মা এ রাতে আল্লাহ্‌র কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে দুনিয়াতে তাদের সাথে দেখা করতে আসেন। এটি সম্পূর্ণ একটি ভিত্তিহীন বিশ্বাস। কেননা মানুষ মারা গেলে তাদের আত্মা বছরের কোন একটি সময় আবার দুনিয়াতে ফিরে আসা, এটা মুসলমানদের আকীদাহ নয়




তাই আমাদের এইসব বিদাআত কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সুষ্ঠভাবে ইসলামিক ওয়েতে জীবন যাপন করতে হবে ।




Content writer: Sheikh Md S Hoque

Copyright ©2018-19 All right reserved by www.incrediblearchives.com

No comments

Powered by Blogger.